কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬ এ ১১:৩২ AM
কন্টেন্ট: পাতা
কর্মসম্পাদনের সার্বিক চিত্র
সাম্প্রতিক অর্জন, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাম্প্রতিক বছরসমূহের (৩ বছর) প্রধান অর্জনসমূহ
কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য সেক্টরের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২2 অনুযায়ী মৎস্যখাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২.৫৩ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপি’র ২২.৬৬ শতাংশ মৎস্যখাতের অবদান। দৈনন্দিন মাছ গ্রহণের পরিমাণ দাড়িয়েছে ৬৭.৮০ গ্রাম (এইচআইইএস, 2022)। বিগত তিন অর্থবছরে (২০২১-২২, ২০২২-২৩ও ২০২৩-২৪) মোট মৎস্য উৎপাদন ছিল৪৭.০৩, ৪৯.২১ ও ৫০.১৮ লক্ষ মেট্রিক টন। বিগত তিন অর্থবছরে (২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪) ৭৪,০৪২.৬৭, 7০০০০.৬৯ ও ৭১৪৭৭.৬৭ মে.টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে যথাক্রমে ৫,১৯১.৭৫, ৪৭৯০.৩০ ও ৪৩৭৬ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদন ও বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে যথাক্রমে ৩য় ও ৫ম স্থান অধিকার করেছে (এফএও, ২০২২)।
সমস্যা এবং চ্যালেঞ্জসমূহ
ব্রুডস্টকের অবক্ষয়, গুণগত মানসম্পন্ন পোনা, খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণের অপর্যাপ্ততা;
জলাবদ্ধতা, মাছের মাইগ্রেশন বাধাপ্রাপ্ত হওয়া ও জীববৈচিত্র্য হ্রাস;
পানি প্রবাহ হ্রাস এবং পলি জমার কারণে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হওয়া;
গলদা ও বাগদা চাষের ক্ষেত্রে গুণগত মানসম্পন্ন ও ভাইরাসমুক্ত পিএল এবং মানসম্পন্ন খাদ্যের অভাব;
জেলেদের মাছ ধরা নিষিদ্ধ মৌসুমে বিকল্প জীবিকায়ন সহায়তার অভাব;
অভয়াশ্রম স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা অপ্রতুল; এবং
সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের মজুদ নির্ণয়, স্থায়িত্বশীল আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
সুস্থিত সরবরাহ ও মূল্য শৃঙ্খলের অভাব।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়ন দর্শণ, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০, Allocation of Business অনুযায়ি মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ম্যান্ডেট, ২০৪১ সালের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও উদ্ভাবনী জাতি হিসাবে স্মার্ট এবং উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশে উন্নীতকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-এ উল্লিখিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০২১-২০২৫) মৎস্য সেক্টরে অর্জিতব্য প্রধান লক্ষ্যসমূহ নির্ধারণ করা হয়েছে:
দৈনিক মাথাপিছু মাছ গ্রহণের পরিমাণ ৭৩ গ্রাম নিশ্চিত করা;
হিমায়িত চিংড়ি, মাছ ও ভ্যালু অ্যাডেড মৎস্যপণ্য রপ্তানি ১.০০ লক্ষ মে.টনে উন্নীতকরণ;
বেকার যুবক ও যুবমহিলাদের জন্য অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মৎস্যচাষে ২০-২৫ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ;
মৎস্যচাষি/মৎস্যজীবীদের আয় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধিকরণ;
আন্তর্জাতিক বাজারে মাছ ও চিংড়ি সরবরাহের প্রতিটি ধাপে উত্তম চাষ ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা; এবং
সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের জন্য গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৫ টি প্রদর্শনী মৎস্য খামার ও ২ টি বিল নার্সারি স্থাপন, ০.১৭ মেট্রিক টন পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, এবং ১০ টি মৎস্য খাদ্য সংক্রান্ত লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন; দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৮০ জন মৎস্যচাষি/সুফলভোগীদের প্রশিক্ষণ প্রদান; মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ১০টি অভিযান পরিচালনা। এ সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাছের উৎপাদন ১৪০৬১.৬৭ মেট্রিক টনে উন্নীতকরণে অবদান রাখা।